গাইবান্ধায় পানিতে তলে গেছে ১৭শ ৫০ হেক্টর জমি: আমন ও শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

জাহিদ খন্দকার,গাইবান্ধা:

এ যেন অন্য রকম বৃষ্টি । ভোর থেকে দুপুর আর বিকাল থেকে রাত। যেন ছুটি নেই । নেই অবসান। টানা বৃষ্টিতে কর্মজীবি মানুষরা বিপাকে। আর বৃষ্টির পানি  যেন বন্যার রুপ নিয়ে কৃষকের মরণ ফাঁদ হয়ে হানা দিয়েছে অমন ও সবজি ক্ষেতে।  চলতি বছরে চার বারের বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠার আগেই আবারো বন্যার পানিতে তলে গেছে ১৭শ ৫০ হেক্টর জমির আমন ক্ষেত ও ২৫ হেক্টর জমির শাক-সবজি । কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অস্বাস দেয় । আপর দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বোর্ড জানিয়েছেন করতোয়া নদীর পানি বিপৎ সীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ও  তিস্তা ব্রহ্মপুত্র যমুনা নদী বিপৎ সীমা ছুই ছুই করছে ।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়,  তিস্তা ব্রহ্মপুত্র যমুনা নদী  বেষ্টিত গাইবান্ধা জেলা । এই বড় তিনটি নদী ছাড়াও এ জেলার উপর দিয়ে বৈয়ে চলেছে করতোয়া,কাটাখালি, বাঙ্গালী, আলাইসব আরো কয়েকটি নদী । টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢালে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ) দুপুর ২টায়  করতোয়া নদীর পানি বিপৎ সীমা অতিক্রম করে  ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । তিস্তা ব্রহ্মপুত্র যমুনা নদীর পানি বিপৎ সীমা ছুই ছুই করছে ।   দু’সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে এই নদী গুলো পানি বেড়ে নদী বেষ্টিত এলাকা গুলো প্লাবিত হয়েছে ।পানি বৃদ্ধির ফলে যে কোন সময় এই তিনটি নদ-নদীর পানি বিপৎ সীমা অতিক্রম করতে পারে ।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত হরিপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মমিম জানান, প্রায় ৩ বিঘা জমিতে তিনি আমন চাষ করেছিলেন । অনেক ফলন ভাল হয়েছিল। কিন্তু তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির তার আমন ধানের জনি এখন পানির নিচে ।

ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের আতিকুর রহমান জানান, চলতি বছরের কয়েক দফায় বন্যায় তার ৫ বিঘা জমির পাট ক্ষেত তলে যায় । পর পর কয়েক দফা বন্যায় তার পাট পঁচে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয় । ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমনের ধান চাষ করা হয় । কিন্তু বন্যার কারণে তার ৫ বিঘার জমির সব আমন ধানের ক্ষেত ডুবে যায় ।

সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার ফরমান আলী জানান, গতবছর ২০১৯ সালের বন্যায় বাঙ্গালী নদী বেষ্টিত সাঘাটার ত্রিমোহনী বাজার হতে অনন্তপুর পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ ভেঙ্গে যায়। এক বছরেও এ বাঁধটি মেরামত না করায় । নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথে এই বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে সাঘাটা উপজেলার প্রায় ৫ টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে ।

এই ইউনিয়নের মানিকগঞ্জ গ্রামের কৃষক আবুল ওয়াজেদ আলী জানান, বৃষ্টি আর বন্যায় আমন ধান ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । আমাদের পর পর কয়েক বারের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । আবারো বন্যায় পানির নিচে তলে গেছে আমন ধান। আমরা এখন কি খাবো। কেউ তো আমাদের খোঁজ নেয় না ।

সাঘাটার বুরুঙ্গী গ্রামের কৃষক জাহিদুল  ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টির কারণে তার টমেটোর চারা পঁচে নষ্ট হয়েছে । এছাড়াও বররটি ক্ষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ময়েন উদ্দিন আকন্দ জানান, বৃষ্টি আর নদীর পানি বাড়ার সাথে সৃষ্ট বন্যায় প্রায় ৫ বিঘা জমির ফসল পানির নিচে তলে গেছে । পানি বাড়তে থাকো আরো বিপদ হবে ।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদী বেষ্টিত তেতুলতলী বাজারের কৃষক আশাদুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিতে তার মুলা শাক, ডাটা শাক, বেগুন মরিচ ও করলা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ।

আপর দিকে  টানা বৃষ্টিতে নিম্ন আয়ের মানুষরা বিপাকে পরেছেন । বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে।  খেটে খাওয়া মানুষরা বৃষ্টিতে ঘরের বাহিরে বের হতে পারছেন না।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: মাকছুদুর রহমান জানান, টানা বৃষ্টি আর নদীর পানি বৃদ্ধিও ফলে জেলার ৭ উপজেলায়  ১ হাজার ৭শ ৫০ হেক্টোর জমির আমন ধান পানিতে নিমর্জিত হয়েছে । অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ২৫ হেক্টর জমির শাক-সবজি পঁচে নষ্ট হয়েছে । ক্ষতি গ্রস্তদের তালিকা করে প্রণোদণা দেয়া হবে ।

গাইাবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবর্হী প্রকৌশলী মো: মোখলেছুর রহমান জানান, করতোয়া নদীর পানি  বিপৎ সীমার  সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । বৃদ্ধির ফলে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে ।  তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা নদীর পানি বিপৎ সীমা ছুই ছুই করছে ।